ফারুক আহমেদ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : নড়াইল সদর উপজেলার ১ নং মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১,২,৩ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার বাসনা মল্লিককে বেশ কয়েকজন দলবদ্ধ হয়ে ধর্ষণ করে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ দিয়েছে তার পুত্র রিঙ্কু মল্লিক।
সরজমিনে শুক্রবার ২৭ ডিসেম্বর মাইজপাড়া ইউনিয়নের পোড়াডাঙ্গা গ্রামে মহিলা মেম্বার বাসনা মল্লিকের বাড়ি গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত বিষয় জানা যায় লোমহর্ষক ভাবে বাসনা মল্লিককে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ ও মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে খাইয়ে দেওয়া হয়ে ছিলো। বাসনা মল্লিক (৪৫) তার স্বামীর নাম নেপাল মল্লিক এ পেশায় একজন কৃষক। সংসারে তার একমাত্র পুত্র রিঙ্কু মল্লিক মা, স্বামী ও পুত্রবধূ আছে।
পুত্র রিঙ্কু মল্লিক জানান, আমার মা বাসনা মল্লিক মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক দুই ও তিন নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ছিলো। আমার মা টিসিবির মাল দিতে গিয়েছিলো গত মঙ্গলবার ২৪ ডিসেম্বর সেখান থেকে দুই নং ওয়ার্ডের দৌলতপুর গ্রামের রজিবুল মাকে মোবাইল ফোন করে ডেকে নিয়ে যায় এক বাড়িতে।
মাকে একা পেয়ে বেশ কিছু লোক জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ওসমানের বড় ছেলে ও রজিবুলসহ আরো অনেকে মারধর করে ২ লাখ টাকা সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করে। তখন মা ওদেরকে গালাগালি দিলে তাকে জোর করে মুখে বিষ খাইয়ে দেয়।
এরপর সেই রাতে বাড়িতে এসে বমি করে সারা রাত কিন্তু ভয়ে সে কিছু বলেনি। সকালবেলা বমি করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলে তুই বিলে যা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার সময় যশোর হাসপাতালে মারা যায় মা তার লাশ পোস্টমর্টাম করা হয়েছে সেখানে রিপোর্টে কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। মা রজিবুলের কাছে টাকা পেত তাই মোবাইল করে ডেকে নিয়ে যায়। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই ও দোষীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য ফাঁসি চাই।
বাসনা মল্লিকের মা সুন্দরী হালদার, দিদি অনি ও রিঙ্কু মল্লিকের বৌ খুবই কান্নাকাটি করছিলো অপরাধীদের বিচার ও ফাঁসি চাই ছিলো।
দৌলতপুর গ্রামের মৃত আজগর মোল্লার পুত্র মুক্তার মোল্লার স্ত্রী শাহিদা জানান, ফারুক, চঞ্চল, ট্রাক চালক শফিকুল, বাসনা ও রজিবুল ছিলো।
মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফুরা খাতুন কে বার বার মোবাইল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এরপর ফোন নম্বর বন্ধ করে দেয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঋণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত মেম্বার বাসনা মল্লিকের লাশ পোস্টমর্টাম করা হয়েছে ও মৃতদেহ হিন্দু নিয়ম অনুযায়ী সৎকার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে যশোর পুলিশের গোপন সূত্রে জানা যায়, বাসনা মল্লিক কে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়েছে এরপর মুখে বিষ জাতীয় কীটনাশক দ্রব্য খাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ সূ্ত্রে জানা যায়, নড়াইল সদরে বাসনা মল্লিক (৪৫) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদ মহিলা সদস্যকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে তার বাড়িতে নেওয়া হয়।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ইউপি সদস্য বাসনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্র থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ২৪ ডিসেম্বর সকাল থেকে টিসিবির মালামাল বিতরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় যুবক রাজিবুলের ফোন কলে পাওনা টাকা আনতে যান। মাইজপাড়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মোক্তার মোল্যার বাড়িতে রাজিবুলসহ ফারুক, চঞ্চল, শফিকুল মিলে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভুক্তভোগী বাসনা মল্লিক বিষয়টি জানিয়ে দেবে বলে হুমকি-ধমকি দিলে তার মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে এ ঘটনায় ভয়ে তিনি কাউকে কিছু বলেননি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার ২৫ ডিসেম্বর সকালে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তিনি ছেলে রিংকু মল্লিকের কাছে তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা ও জড়িতদের নাম বলেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ২৬ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে আর স্বজনদের অভিযোগে উঠে আসে ইউপি সদস্য বাসনা মল্লিকের ওপর চালানো হয় সংঘবদ্ধ নির্যাতন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোক্তার মোল্যার স্ত্রী সাহিদা ও তার পুত্রবধূ সোনিয়া বলেন, মেম্বার বাসনা আসছিলো, তারে ডেকে আমাদের ঘরে নিয়ে যায় রাজিবুল, শফিকুল, চঞ্চল,ফারুক। তারপর তিনি চলে যেতে চাচ্ছিলেন কিন্তু জোর করে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। আমাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকে জোর করছিল।
বাসনা মল্লিককে হারিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ স্বজনদের। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।
বাসনা মল্লিকের ৮০ বছর বয়সি মা সুন্দরী হালদার ছবি হাতে বিলাপ করছেন, মা কই, আমার মা কই?
জনপ্রিয় এমন জনপ্রতিনিধি বাসনার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ক্ষোভ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও তার সহকর্মীরা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের এ ঘটনার সত্যতা জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম সাপ্তাহিক সীমান্ত বাণী ও অনলাইন সীমান্তবাণীর ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিকে বলেন, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ আমাদের অবহিত করেন, ইউপি সদস্য বাসনা মল্লিকের পেটে বিষের ট্রেস রয়েছে এবং তার সাথে একাধিক ব্যক্তির জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের আলামত পাওয়া গেছে। এ তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বিষয়টি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply